ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরানে উন্নত সংস্করণের শাহেদ 'ড্রোন পাঠাচ্ছে' রাশিয়া

লন্ডন থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন ইরানে পাঠাচ্ছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ড্রোনগুলোর কিছু সংস্করণ আগের তুলনায় আরও আধুনিক এবং উন্নত নেভিগেশন প্রযুক্তিসম্পন্ন।


খবরে বলা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইরান থেকে পাওয়া ‘শাহেদ’ ড্রোনের প্রযুক্তি উন্নত করেছে রাশিয়া। এখন সেই আপগ্রেড করা সংস্করণই ফের ইরানের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। যদিও ঠিক কতসংখ্যক ড্রোন পাঠানো হয়েছে বা এটি নিয়মিত সরবরাহের অংশ কিনা—সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


ইউরোপীয় এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, চলতি মাসে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ড্রোন হস্তান্তর নিয়ে বেশ সক্রিয় আলোচনা হয়েছে। তবে কিছু কর্মকর্তার মতে, স্বল্পসংখ্যক ড্রোন এই অঞ্চলের সামরিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে না।


প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, রাশিয়া থেকে ইরানে পাঠানো তথাকথিত মানবিক সহায়তার চালানেও ড্রোন থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আজারবাইজানের মাধ্যমে ট্রাক ও রেলপথে খাদ্য ও ওষুধ পাঠানোর আড়ালে এই সরঞ্জাম পরিবহন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান গত এক মাস ধরে ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশ এবং মার্কিন ঘাঁটিতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তাদের সামরিক অভিযানে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।


বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা দিন দিন জোরদার হচ্ছে। উভয় দেশই ড্রোন প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে সক্রিয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া উন্নত অ্যান্টি-জ্যামিং প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং জেটচালিত ড্রোন প্রযুক্তি ইরানের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পারে।


তবে মস্কো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র এ ধরনের খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের সঙ্গে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির মাধ্যমে ‘শাহেদ’ ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে রাশিয়া। পরবর্তীতে নিজেদের কারখানায় এই ড্রোন উৎপাদন ও উন্নয়নও শুরু করে তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন ড্রোন সরবরাহ যদি নিশ্চিত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

ads
ads
ads

Our Facebook Page